গাছুয়া ঘাট তথা আমীর মোহাম্মদ ফেরিঘাট শুধুমাত্র একটি যাতায়াতের স্থান নয়, এটি সন্দ্বীপবাসীর জীবনের সঙ্গে মিশে থাকা এক টুকরো ইতিহাস, এক বিশাল স্মৃতির ভাণ্ডার।
যারা ৯০ দশকের মানুষ, তাদের কাছে এই ঘাটের চিত্র এখনো একদম স্পষ্ট— সেই কাদা মাটির পথ, জোয়ার-ভাটার সময়ের হিসাব, মানুষের ভিড় আর লঞ্চের হুইসেলের শব্দ যেন এখনো কানে বাজে।
২০০০ সালের দিকেও গাছুয়া ঘাট ছিল অনেকের জীবনের প্রথম যাতায়াতের দ্বার। আমার মামা শফিকুল আলম কেরানি (প্রকাশ শফি কেরানি) এই ঘাটের লঞ্চে চাকরি করতেন। সেই সুবাদে, আর বাড়ির কাছাকাছি হওয়ায়, আমাদের যাতায়াত হতো প্রায়ই এই ঘাট দিয়েই।
আমার খালার বাড়ি শুকলালহাটে হওয়ায় আমাদের জন্য এটি ছিল একধরনের সুবিধাজনক পথ— কখনো একদিন, কখনো দুই দিন খালার বাড়ি থেকে তারপর শহরের পথে রওনা হতাম।
এই ঘাটের যৌবনকাল অনেকেই দেখেছেন— কত আনন্দ, কত দুঃখ, কত হাসি-কান্নার স্মৃতি লুকিয়ে আছে এই ঘাটের ঢেউয়ে। সময়ের সঙ্গে অনেক ইজারাদার এসেছেন, ঘাটের রূপ বদলেছে, তবুও কিছু সমস্যা ছিলো— কাঁদামাটির মধ্যে হেঁটে লঞ্চ বা স্পিডবোটে উঠতে হতো, আবার কখনো জোয়ার-ভাটার সময় মেনে চলাফেরা করতে হতো।
আমার এখনো মনে আছে— চট্টগ্রামের কোলে লঞ্চের অপেক্ষায় মানুষের ভিড়, কেউ বাগানে বসে আড্ডা দিচ্ছে, কেউ পরিবার নিয়ে অপেক্ষা করছে… সময় যেন থেমে থাকত। সেই দিনগুলো এখন শুধু স্মৃতি।
আজকের দিনে কুমিরা ও গুপ্তচরার ফেরিঘাটের আধুনিকায়নের ফলে সেই দৃশ্যগুলো অনেকটাই বিরল। এখন মানুষের হাতে সময় কম, পকেটে টাকা বেশি— তাই আর অপেক্ষা নয়। সন্দ্বীপ থেকে চট্টগ্রাম যাওয়া এখন অনেক সহজ। আধুনিক লঞ্চ, স্টিমার, মালবাহী বোট, এমনকি দ্রুত স্পিডবোট— সবই এখন মানুষের নাগালে।
এখন কেউ চাইলে সকালে চট্টগ্রাম গিয়ে নিজের কাজ সেরে দুপুরে বাড়ি ফিরে ভাত খেতে পারে— একসময় যা ছিল অকল্পনীয়।
কুমিরা ও গুপ্তচরা ঘাটের পাশাপাশি এখন আবার নতুনভাবে চালু হয়েছে গাছুয়া আমীর মোহাম্মদ ফেরিঘাট। যাত্রীদের সুবিধার কথা চিন্তা করে কর্তৃপক্ষ রাস্তা-ঘাট ও আশেপাশের জায়গাগুলোর সংস্কার করেছে— এটি সত্যিই প্রশংসনীয় উদ্যোগ।
শুরুর দিকে এক বা দুই দিন স্পিডবোটের ভাড়া ছিল ৪০০ টাকা, কিন্তু সাধারণ মানুষের মতামত ও সমালোচনা বিবেচনা করে কর্তৃপক্ষ ৩০০ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করেছে— যা সত্যিই যাত্রীবান্ধব পদক্ষেপ। আমি এই উদ্যোগের জন্য ঘাট কর্তৃপক্ষকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও সাধুবাদ জানাই।
কেন আপনি আমীর মোহাম্মদ ফেরিঘাট দিয়ে যাতায়াত করবেন?
যদি আপনার বাড়ি উত্তর সন্দ্বীপের ইউনিয়নগুলোতে হয়— যেমন গাছুয়া, বাউরিয়া, সন্তোষপুর, আমানউল্লাহ বা কালাপানিয়া— তাহলে শীতের মৌসুমে গাছুয়া ঘাট দিয়ে চলাচল করা হবে সবচেয়ে আরামদায়ক ও সময় সাশ্রয়ী।
👉 আপনি সহজেই ঘাটে পৌঁছে টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন,
👉 দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হবে না,
👉 আর কোনো সমস্যায় পড়লে সরাসরি ঘাট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেই সমাধান পেতে পারবেন।
আমি ব্যক্তিগতভাবে সন্দ্বীপের সকল প্রবাসী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতি অনুরোধ জানাই —
অন্তত একবারের জন্য হলেও গাছুয়া আমীর মোহাম্মদ ফেরিঘাট হয়ে বাঁশবাড়িয়া ফেরিঘাটে যাতায়াত করুন।
নিজেই দেখবেন, যাত্রাটা কতটা আনন্দদায়ক, কতটা স্মৃতিময়।
আপনাদের প্রতিটি যাত্রা হোক নিরাপদ, সুন্দর ও আনন্দময়।
No comments:
Post a Comment