Total Pageviews

Showing posts with label আর্টিকেল. Show all posts
Showing posts with label আর্টিকেল. Show all posts

Monday, 8 March 2021

সম্পর্ক — নুর হাসান সন্দ্বীপী

সম্পর্ক একটি মাত্র শব্দ হলেও এটার বাস্তব হিসেব নিকেশ অনেক বড়। কেউ এই সম্পর্ক রক্ষার জন্য যুদ্ধ ঘোষণা করে কেউ বা সম্পর্ক নষ্টের জন্য যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে।

পৃথিবীর প্রত্যেক সম্পর্ক সুন্দর ও রক্ষা করার জন্যে প্রয়োজন আন্তরিকতা ও সৎ চিন্তাভাবনা এবং মানসিকতা। আপনি মানসিক ভাবে যদি স্থির না থাকেন তাহলে কোন সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে পারবেন না।

বর্তমান সময়ে প্রেম-ভালোবাসা ও বিয়ের প্রবণতা বেড়েছে। পাশাপাশি সম্পর্ক বিচ্ছেদের প্রবণতা বেড়েছে। অধিকাংশ সম্পর্ক বিচ্ছেদের জন্য দায়ী বিয়ের আগের সম্পর্ক ও বিয়ের পরের সম্পর্ক।

তবে আমি ব্যক্তিগত ভাবে মনে করি। বিয়ের আগের সম্পর্ক গুলোকে টিকিয়ে রাখা প্রয়োজন। কেন না—বর্তমান সময়ে একজন ছেলে ও মেয়ে তার জীবন সঙ্গীকে ঠিকঠাকমতো চিনে নেওয়া উওম। জানাশোনা এবং শ্রদ্ধা থাকলে ভবিষ্যতে একসাথে চলতে সমস্যা হবে না। তবে খেয়াল রাখতে হবে এমন কিছু করা যাবে না। যেটা ছেলে এবং মেয়ের জন্য ক্ষতিকর।

বিয়ে পরে ছেলে অথবা মেয়ে এমন কোন ব্যক্তির সাথে কোনপ্রকার সম্পর্কে না জড়ানো উওম। এতে পরিবার ও নিজের সম্মান বাঁচে পাশাপাশি কোনপ্রকার প্যারা নেওয়ার ঝামেলা নেই।

তবে আরেকটা সত্যি কথা হলো। বর্তমান সময়ের সম্পর্ক গুলো যেন কচুরিপানার মত উপরে সবুজ সুন্দর নিচে নানান রকমের ময়লাতে ভরা। ছেলে এবং মেয়ে দুইজন দুইজনের সময় কাটানোর জন্য প্রেম করে। শতে হাজারে কয়েকজন পাওয়া যাবে যারা সত্যিকার অর্থে ভালোবাসে।

কিছুকিছু সময় দেখা যায়। ছেলে মেয়ের সাথে বেইমানি করে আবার মেয়ে ছেলের সাথে বেইমানি করে। তবে আমি সেই সম্পর্ক গুলোকে ট্রু লাভ বলি না। আমি মনে করি সস্তা দিনের বস্তা ভরা পচাঁ ভালোবাসা।

কারো সাথে সম্পর্ক করার আগে বারবার ভাবুন। সে আসলে আপনার সম্পর্কের মর্যাদা রাখতে পারবে কিনা। সে আসলে আপনাকে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে পারবে কিনা। দুনিয়াতে কেউ কাউকে ষোলো আনা ভালোবাসে না বিশ্বাস করে না করবে না। তারপরও জীবন চলার জন্য সম্পর্কের গুরুত্ব অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

তবে খুব কাছের বন্ধুকে টাকাপয়সা ধার দেওয়া থেকে দূরে থাকুন। আর যদিও দেন তাহলে সেই টাকা পাওয়ার আশা করে না দেওয়া উওম। কেন না বন্ধুদের সাথে সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার জন্য টাকার ভূমিকা অপরিসীম।

কারো সাথে যদি সম্পর্ক নষ্ট হয় এটা নিজে জল গোলা করার কিছুই নেই। ভেবে নিবেন এই দুনিয়াতে সম্পর্ক হলো ঋতুর মত—সময়ের প্রয়োজনে পরিবর্তন বাধ্যতামূলক।

তবে পরিশেষে একটা কথাই বলবো। হাজারো প্রতিকূলতার মাঝে কখনো সম্পর্ক নষ্ট করার চেষ্টা করবেন না। চেষ্টা করবেন যেভাবেই হোক সম্পর্ক টিকিয়ে রাখবেন। তাহলে ইনশাআল্লাহ একদিন আপনি আমি আমরা একটা সফল সুন্দর ও ভালো দিন দেখবো।

Wednesday, 11 December 2019

খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর বাংলাদেশী ইসলামি পণ্ডিত ও গবেষক - নুর হাসান সন্দ্বীপী

খোন্দকার আ. ন. ম. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর সাহেবকে আমরা কে না চিনি? নিশ্চয়ই আমরা যারা টেলিভিশনের ইসলামিক অনুষ্ঠান গুলো দেখেছি।তারা এই মহান ব্যক্তিটিকে দেখেছি এবং চিনি।

বাংলাদেশের একজন ইসলামী ব্যক্তি, লেখক ও গবেষক। তিনি ছিলেন ইসলামী চিন্তাবিদ, টিভি আলোচক, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আল হাদীস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিস বিভাগের অধ্যাপক, বিশিষ্ট ইসলামী পণ্ডিত, গবেষক ও লেখক। তিনি পিস টিভিইসলামিক টিভিএটিএন বাংলাএনটিভিচ্যানেল নাইন সহ বিভিন্ন টিভিতে ইসলামের সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আলোচনা করতেন এবং মার্কি‌ন ইসলামী টেলিভিশন চ্যানেল আইটিভি ইউএস-এর উপদেষ্টা ছিলেন। ধর্মী‌য় বিভিন্ন বিষয়ে বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে সহজ ও নম্র ভাষায় বিস্তারিত উত্তর প্রদানে তিনি সমাদৃত ছিলেন।
        খোন্দকার আ. ন. ম. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর

আপনারা যারা এই মহান ব্যক্তিটিকে ব্যক্তিগত ভাবে চিনেন তারা নিশ্চয়ই জানেন তিনি কেমন মানের লোক ছিলেন। আমি ব্যক্তিগত ভাবে ওনাকে না চিনলেও, তবে ওনার অনুষ্ঠান আলোচনা ও ওয়াজ গুলো শুনে অনেক ভালো, নম্র ভদ্র মার্জিত মানুষ হিসাবে বিবেচনা করেছি।

তিনি সবসময় ন্যায়পরায়ণ, সঠিক ভাবে ইসলাম প্রচার পাশপাশি ইসলামের নাম দিয়ে প্রচলিত কুসংস্কারের বিরুদ্ধে অনেক সুন্দর ভাবে আলোচনা করতেন।তিনি মাজার পূঁজা, পীরের নামে ভন্ডামি সহ নানান বিষয়ে আলোচনা করে অনেক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন।

এখনো ফেসবুক, ইউটিউবে আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীরের পুরাতন আলোচনার ভক্ত কম নয়।ওনার ভিডিও আলোচনা গুলো মানুষ শুনে এবং শিক্ষা গ্রহণ করে।

প্রাথমিক জীবন, শিক্ষা ও কর্মজীবন

আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীরের জন্ম হয় ১৯৬১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ঝিনাইদহের ধোপাঘাট গোবিন্দপুর গ্রামে। তার পিতা খোন্দকার আনওয়ারুজ্জামান এবং মাতা বেগম লুৎফুন্নাহার। তিনি ১৯৭৩ সালে ঢাকা সরকারি আলিয়া মাদরাসা থেকে দাখিল পাশ করেন। এরপর একই প্রতিষ্ঠান থেকে ১৯৭৫ সালে আলিম এবং ১৯৭৭ সালে ফাজিল ও ১৯৭৯ সালে হাদিস বিভাগ থেকে কামিল পাস করার উচ্চতর শিক্ষার জন্যে সৌদিআরব গমন করেন। রিয়াদে অবস্থিত আল ইমাম মুহাম্মদ বিন সউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি ১৯৮৬ সালে অনার্স, ১৯৯২ সালে মাস্টার্স ও ১৯৯৮ সালে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। রিয়াদের মুহাম্মাদ বিন সাউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে তিনি তৎকালীন রিয়াদের গভর্নর সালমান বিন আবদুল আজিজের হাত থেকে পর পর দু’বার সেরা ছাত্রের পুরস্কার গ্রহণ করেন। এ সময় তিনি শায়খ আব্দুল্লাহ বিন বাযমুহাম্মদ বিন উসায়মিন, আল জিবরিন ও সালিহ আল-ফাউজান-সহ স্কলারদের সান্নিধ্য লাভে সক্ষম হন। লেখাপড়ার পাশাপাশি ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত তিনি উত্তর রিয়াদ ইসলামি সেন্টারে দাঈ ও অনুবাদক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। লেখাপড়া শেষ করে ১৯৯৮ সালে কুষ্টিয়া ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের আল হাদিস অ্যান্ড ইসলামি স্টাডিজ বিভাগের লেকচারার হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৯৯ সালে তিনি ইন্দোনেশিয়া থেকে ইসলামি উন্নয়ন ও আরবি ভাষা বিষয়ে উচ্চতর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। ২০০৯ সালে তিনি ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের একই বিভাগে প্রফেসর পদে উন্নীত হন। কর্মজীবনে তিনি ঢাকার দারুস সালাম মাদ্রাসায় খণ্ডকালীন শায়খুল হাদিস হিসেবেও পাঠদান করতেন।

কর্ম‌কান্ড

তিনি সর্বদা মানুষকে ইসলামমুখী করার ব্যাপারে সচেষ্ট ছিলেন। মানুষের ইসলামী উন্নতির চিন্তা করতেন। এজন্য তিনি এলাকার মুসলামানদের ইসলামী শিক্ষাকে সহজ করার জন্য প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ইসলাম-শিক্ষা কার্যক্রম চালু করেন। এক্ষেত্রে তিনি ছেলে-মেয়ে উভয়ের জন্যই পৃথকভাবে পর্দার সাথে কুরআন হিফয করা ও অন্যান্য ইসলামী শিক্ষা গ্রহণের ব্যবস্থা করেন। এছাড়াও সাধারণ শিক্ষিত মানুষদের ইসলামী জ্ঞান লাভ সহজ করার লক্ষ্যে বাংলাভাষায় ধর্মীয় বই-পুস্তক রচনা করেছেন। তার মধ্যে একটি চিন্তা ছিলো সমাজের মানুষের পরিবর্তন দরকার, মহিলাদের পরিবর্তন দরকার। তাদেরকে খারাপ পরিবেশ থেকে বাঁচিয়ে ভালো কাজে সম্পৃক্ত করা দরকার। এজন্য এলাকাবাসীদের নিয়ে তার মসজিদে নিয়মিত মাসিক মাহফিলের পাশাপাশি বার্ষিক মাহফিলের আয়োজন করতেন। এলাকার অন্যান্য মসজিদেও মাসিক মাহফিল আয়োজনের চেষ্টা করেছেন এবং তিনি নিজে বা তার প্রতিনিধি পাঠিয়ে মাহফিলগুলোর মাধ্যমে মানুষের মাঝে ইসলামী সচেতনতা সৃষ্টির চেষ্টা করতেন। বাংলাদেশে খ্রিস্টান ধর্মান্তকরণ ও খ্রিস্টান মিশনারীদের তৎপরতার প্রতিরোধে তিনি ভূমিকা রেখেছেন। ওয়াজ-মাহফিল ও বিভিন্ন রচনার মাধ্যমে তিনি তাদের সম্পর্কে মুসলিম উম্মাহকে সতর্ক করার প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। এছাড়াও স্থানীয় আলেম ও ইমামগণকে নিয়ে ইলমী ইজতিমার আয়োজন করেন। ইসলাম প্রচারে তার বহুমুখী পদক্ষেপসমূহ নিম্নরূপ

মৃত্যু

আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর ২০১৬ সালের ১১ই মে মাগুরায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে নিজ মাইক্রোবাস ও কাভার্ড‌ভ্যানের সংঘর্ষে গাড়িচাপার মাধ্যমে সড়ক দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলে নিহত হন। কিছু স্থানীয় আলেম দাবি করেন যে, খ্রিষ্টান মিশনারিগুলোর প্রচারনার বিরুদ্ধে ধর্মীয় প্রচারণা কার্যক্রম পরিচালনা করার কারণে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে। ১৮ মে ২০১৬ তারিখে, তার নিজ কর্মস্থল ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে তার স্মরণে বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ৪ জুন ২০১৬ তারিখে আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীরের স্মরণে বাংলাদেশ জাতীয় মুফাসসির পরিষদ কর্তৃ‌ক আয়জিত আলোচনা সভায় বক্তারা তাকে "নিরহংকারী আলেম" অভিহিত করে বলেন, "তিনি বড় মাপের একজন জ্ঞানী হওয়া সত্ত্বেও কখনই অহংকার আসতে পারে এমন কোন কথা বলতে ও কাজ করতে আমরা দেখিনি। কঠিন ও জটিল মাসয়ালাকে সহজভাবে উপস্থাপন করতে পারতেন। তিনি নির্মল হদয়ের একজন মানুষ ছিলেন।

Tuesday, 26 November 2019

এখনো তোমাকে ভালোবাসি,ভালোবাসা ছেড়ে যায় না মানুষ মানুষকে ছেড়ে যায় - নুর হাসান সন্দ্বীপী

আমি একদিন তোমার জন্য পাগল ছিলাম।আসলে পাগলামোটা শুধু তোমার শরীরের জন্যে নয়।তোমার দেহের ভিতরে থাকা মনের জন্যে।

তোমার কাঁজল কালো দু'চোঁখ দিয়ে আমি রঙিন ভুবনের মাঝে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখতাম।স্বপ্নে ও বাস্তবে নায়িকা হিসেবে শুধু তোমাকে চাইতাম।

জানি হয়তো তুমি আমার কথা গুলো শুনে মিটমিট করে হাসি দিয়ে উড়িয়ে দিতে।মনে মনে বলতে হয়তো আমি তোমার সাথে অভিনয় করতেছি।আসলে আমি যে একজন অভিনেতা। তুমি বিশ্বাস রাখতে কি রাখতে না আমি সেইদিকে না তাকিয়ে শুধু তোমাকে ভালোবেসে যেতাম।

হঠাৎ কালবৈশাখি ঝড়ের তান্ডবে অবিশ্বাসের খেলা শুরু হলো।জন্ম নিলো তোমার মনে বিষাক্ত জল্পনা।সেই জল্পনার কারণে আমি তোমার কল্পনার জগৎ থেকে হারিয়ে গিয়েছি।তোমার হ্নদয়ে বসবাস করতে শুধু করলো অন্যকেউ।

তবে তুমি কি একটুও খেয়াল করোনি? তোমার কাছে আমি হেরে গেলেও ভালোবাসার সাগরে নেমেও আমি হেরে যায়নি। জীবনের শেষ সময় পযন্ত তোমাকে ভালোবেসে গিয়েছি।তুমি আমাকে ছেড়ে চলে যাওয়ার পরেও আমি তোমাকে একটু বারের জন্যেও ভুলতে পারিনি। জি হ্যাঁ এটাই সত্যিকারের ভালোবাসা।

শুনো সত্যিকারের ভালোবাসা কখনো মরে না।ছেড়ে চলে যায় না।মানুষ মানুষকে ছেড়ে যায়।ভালোবাসা শুধু রয়ে যায় নিরবতায়...

- নুর হাসান সন্দ্বীপী | ২৬/১১/১৯ইং | সন্দ্বীপ