Total Pageviews

Saturday, 19 December 2020

নুর হাসান সন্দ্বীপী'র কবিতা "শেষ কবিতা'

তোমাকে নিয়ে একটা উপন্যাস লিখবো ভাবছিলাম
উপন্যাসের দুই লাইন লেখার পরেই মনে হলো তুমি আমার নয়।

উপমা দিয়ে সেই অনেক আগ থেকে লিখছি,
কবিতার ছন্দে পাতায় পাতায় জুড়ে ছিলে শুধুই তুমি—
কখনো কবি হতে চেয়েছি কখনোবা প্রেমিক,
আমাদের গল্পে দুইজন ছিলাম—শুধুই দু'জন।

তোমার কি ফেব্রুয়ারির স্মৃতি মনে পড়ে? এইতো মনে হয় যেন সেদিন!
দেখতে দেখতে ফেব্রুয়ারী গেলো,ফেব্রুয়ারী আসলো—

এখনো স্মৃতি স্বরুপ তোমাকে নিয়ে লেখা সেই কবিতা গুলো সাক্ষী।
সত্যি বলছি—
শুধু কবিতার পাতা জুড়ে নয় মন থেকে তোমাকে ভালোবাসি।

কেন জানি তোমাকে লাল শাড়ী, রেশমি চুড়িতে দেখতে ইচ্ছে করছিলো, দেখা হয়নি—হবে?
হয়তো হবে, তবে আমার হয়ে নয় অন্যকারো সাথে।

একগুচ্ছ কাঁচের চুড়ি নিয়েছিলাম, দেওয়া হলো না। হবে বলেও মনে হচ্ছেনা।
আমার ছোট উপহার রেখো তুমি যতনে—
আমি তোমায় মনে রাখবো মৃত্যুর আগমুহূর্তে থাকবে তুমি স্বরণে।

Monday, 2 November 2020

নুর হাসান সন্দ্বীপী'র কবিতা 'জুলাই আসলেই আমার বয়স কমতে থাকে'

বহুদিন ধরে ভাবছি,
গোপনে গোপনে আয়োজন।
চলে যাচ্ছে বলে যাচ্ছে সময়—
দিনক্ষণ হিসাবে—বেহিসাবে ঘন্টা পেরিয়ে।

তবুও কেন জানি মনে হচ্ছে—আবার হচ্ছেনা,
কিন্তু চিন্তার কোন কারণ নেই—তবুও কেন চিন্তাভাবনা এসে নাড়িয়ে দিচ্ছে? জাগিয়ে দিচ্ছে ভুলন্ত অতীত ঝুলন্ত ভবিষ্যৎ!

ও আচ্ছা—
এইতো সেদিন একবছর পেরিয়ে এসেছি—

ঠিক তারো কয়েকবছর আগে, এইভাবে চলতে চলতে আবারো দিনক্ষণ সাপ্তাহ পেরিয়ে ঠিক কয়েকমাস পরে বছর?

নানান জল্পনাকল্পনার অবসান—অবস্থান ধর্মঘট নামানা ছুটন্ত গাধার পিঠে করে ঘুমান্ত বছর।

আবার এসে গেছে, আবার ফেঁসেগেছে? শহরের যানজট—

বহু বসন্ত ফেরিয়ে—আবারো মনে করতে হচ্ছে
জুলাই আসলেই আমার বয়স কমতে থাকে।

কিছুসংখ্যক মানুষ ভুলে যায়,ভুলে যেতে হয়।ভুলে থাকে নিজের জন্মের দিনক্ষণ সাপ্তাহ মাস তারিখ।

এইভাবেই আস্তে আস্তে চলে মৃত্যুর পূর্বাভাস।

সত্যি বলছি জুলাই আসলেই আমার বয়স কমতে থাকে, কেউ কেউ বুঝাতে থাকে—তবুও লাভ নেই।

এত লাভ দিয়েও কাজ নেই—জীবনে বয়স কমতে থাকে এরপরে আর কোন অংক নেই।

জুলাই আসলেই আমার বয়স কমতে থাকে, এটাতে আলাদা ভাব নেই।

Wednesday, 7 October 2020

নুর হাসান সন্দ্বীপী'র কবিতা "সমকালীন বাস্তবতা"

আরো নারী নির্যাতিত হবে,
আরো নারী হবে বিবস্ত্র—
প্রতিদিন ধর্ষণের শিকার হচ্ছে নারী
মাঝে মাঝে ধর্ষিত হয় বৃদ্ধা-শিশু মিথ্যাচার নয় বাস্তবতা দেখুন।

সবাই বিচার চায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে
কেউ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি মাঝে,
কেউ কেউ বিচারের জন্যে রাস্তায় নামে—রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে।
তবুও কেন বিচারের জন্যে চিৎকার করে মানুষ
রাষ্ট্র যন্ত্রের বিচার বিভাগ কি অন্ধ?

মানুষ গুলো রাষ্ট্রের কাছে বিচার চেয়েও বিচার পায় না
বিচার বিভাগের ঘুম বেড়েছে দুগুণ—

আরো নারী ধর্ষিত হবে, ধর্ষিত হচ্ছে মানুষের বিবেক
হত্যায় মেতেছে বন্ধুরাষ্ট্র, সিমান্ত হত্যার কথা বলা যাবেনা বলা যে মহাপাপ—

এই রাষ্ট্রের দালালী করা যাবে না, করতে হবে বন্ধুরাষ্ট্রের।
না হলে তবে হতে হবে লাশ, তোমার উপরে করা হবে জেল-জুলুম

তুমি ধর্ষণ নিয়ে বলতে পারবে না, তুমি ধর্ষণ নিয়ে কথা বলার কেউ না!
তুমি চিৎকার করার কে? তোমরা জনগণ সমালোচনা করার কে?
অধিকার কি রেখেছে রাষ্ট্র?

আমরা সরকার, রাষ্ট্রের মালিক
জনগণ আছে দিবে হাজারো নালিশ—তাই বলে কি করতে হবে মিমাংসা বসাবো কি সালিশ?

মিডিয়া আমাদের কেনা গোলাম,
টেলিভিশন পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ার আগে জিগ্যেস করতে হয় প্রথম পাতায় কি লিখতাম?

টেলিভিশনের টকশোতে নারীবাদীরা কথা বলে
বাস্তবতায় শূন্য, নারীরা নারীদের পতিতা বানায় মাঝে মাঝে বানায় পণ্য।

রাষ্ট্রের মাঝে থাকতে চাও, দু'বেলা দুমুঠো খেয়ে বাঁচতে চাও অন্ন?
করতে হবে দৃষ্টির অপচয়, সরকারি দলের প্রিয় হলেও জনগণের কাছে তুমি জঘন্য।

রাষ্ট্রে বিচার বহির্ভূত হত্যা হয়, রাষ্ট্র করে গুম খুন নির্যাতন—
কবি-শিল্পী-লেখক-সুশীলেরা বাঁচতে চাই—ওদেরো ভয় করে রাষ্ট্র যদি করে গুম।

Sunday, 6 September 2020

নুর হাসান সন্দ্বীপী'র কবিতা "শেষ চিঠি"

তোমার খোঁজ পাচ্ছি না
বাড়ীর আশপাশে ঘুরছি
এদিক ওদিক করেও পাচ্ছি না—
ব্যস্তময় সময় যেন আরো ব্যস্ত লাগছে।

তুমি কি এখানে আছো,
নাকি চলে গেছো কোন ব্যস্ত শহরে?
ইট-পাথরের তৈরি কোন ধনীর দুলালের ঘরে?
জানি হয়তো সুখে আছো অথবা সুখে থাকার অভিনয় করে যাচ্ছো....।

জানি তুমি ভালোবাসতে কাঁচা অভিনয়ের মাঝে রয়েছে চরম দক্ষতা—
কেন জানি জানতে ইচ্ছে হচ্ছে খুব
তোমার পড়ার টেবিলে থাকা রঙিন খামের ভিতরে লেখা গুলো কি পড়ছিলে?
নাকি সময় হয়নি পড়বে পড়বে বলে রেখে দিয়েছিলে পরে?

সেই চিঠির উওর মিলছে না যে!
নাকি চিঠির ভাষা বুঝোনি? বুঝোনি আমার মনের ভাষা?
আমিতো তোমাকে চেয়েছিলাম, ভেবেছিলাম শেষ ভরসা।

জানি বহুদিন ধরে তোমাকে লিখছি না
তোমাকে নিয়ে হচ্ছে না চর্চা—
এটাই হয়তো শেষ চিঠি, এটাই শেষ ভালোবাসা
হুটহাট করে চলে যাবো পাবে শুধু নীরবতা।

Saturday, 5 September 2020

নুর হাসান সন্দ্বীপী'র কবিতা 'চিরবিদায়'

তোমার বাড়ির পাশদিয়ে যাচ্ছিলাম
হুটহাট করেই চলে যাচ্ছিলো দেহ—

দেহের ভিতরে থাকা মন
কেন জানি করছিল চটপট
নিজেকে ও মনকে না সামলাতে সামলাতে...
এদিক ওদিক ঊঁকিঝুঁকি—
তোমাকে খুঁজছি, ঐ-যে সূদুরে ভেজা ওড়না দেখছি।
ওড়নার পাশে শুকাতে দেওয়া লাল সেলোয়ার-কামিজ...

তোমাকে দেখার ইচ্ছে জাগলো, এক-পা দু-পা করে
নীরব নিস্তব্ধ হয়েও এগিয়ে যাচ্ছে শরীর।
বারান্দার জানালার পাশে একগুচ্ছ চুল,
চুলের পাশে সূর্যমুখীর ফুল—

তোমাকে দেখছি, দেখার পাশাপাশি ভাবছি,
হয়তো মন চাই না হয় দেহ তুমি কি আমায় নিয়ে এখনো ভাবো!
তোমার দেহের ভিতরে কি মন নেই?
নাকি মনের ভিতর আমি নেই?

চিৎকার করে জিগ্যেস করতে ইচ্ছে হলো,
চিৎকার করে জিগ্যেস করার পরে-ও।
তুমি হেসে যাচ্ছো,বলে যাচ্ছো নতুনকে নিয়ে কথা।

ভাবতে ভাবতে আবার হাটছি
যাচ্ছি দূরে চলে যাচ্ছি বহুদূরে, যে দূরের সীমা নেই।
সীমাহীন ছুটে চলাকে হয়তো চিরবিদায় বলে।

সে-ই বিদায় দিতে আমি পেরেছি
তুমি পারোনি আগে।