Total Pageviews

Tuesday, 12 January 2021

নুর হাসান সন্দ্বীপী'র কবিতা 'পৃথিবীর পথ'

জীবনানন্দ দাঁস এখনো পড়া হয় নাই—হবে?
হয়তো হবে—একটু পরে-
হাজার বছর ধ’রে আমি পথ হাঁটিতেছি পৃথিবীর পথে,
কবিতা, গল্প, উপন্যাস পড়তে পড়তে হয়তো ক্লান্ত হবো—
বিশ্রাম আমাকে খুঁজবে, আমি বিশ্রামকে বিশ্রাম দিয়ে ছুটে যাবো আশ্রামের ধারে।

সেই দিন, স্মৃতি বিজড়িত ঘটনার সাক্ষী হয়ে থাকবে গাছ তরুলতা কীটপতঙ্গ নারী পুরুষ ও যুব সমাজ।
তোমার এলাকার পাশ দিয়ে হাটা চলা করা স্মৃতি হয়তো লিপিবদ্ধ করবো।

লিপিবদ্ধ কবিতার গুচ্ছ গুলো কেউ তুলে নিবে পাঠ্যবই সহ নানান পত্রিকায়।
তোমাকে লিপিবদ্ধ করার বড্ড ইচ্ছে ছিলো, হয়নি হয়ে উঠেনি—উঠবে না।

পৃথিবীর থেকেও বড় সূর্য থাকতে মোমবাতির জ্বলন্ত আগুনে দেখা ইচ্ছে নেই তোমাকে—

হাজার বছর ধরে অপেক্ষা করে যাবো তোমার জন্য, তোমাকে খুঁজে হয়তো পাবো। হয়তোবা না পাওয়ার বেদনায় সব হারাবো...পৃথিবীর পথে।

Tuesday, 22 December 2020

নুর হাসান সন্দ্বীপী'র কবিতা 'মুখোশ'

একটা সময় আসবে
সকাল দুপুর সন্ধ্যা আমাকে খুজবে—
সেদিন রাতের আকাশের চাঁদের দিকে তাকিয়ে
চিৎকার করে কান্নাকাটির পাশাপাশি বুঝবে।

তোমার শরীরের প্রতিটা রক্ত কণা
সবকিছুই আমার জানা—
সত্যি তুমি আমাকে খুজবে,
তারাদের পাশে দাঁড়িয়ে তোমাকে দেখে যাবো নীরবে।

বহু তারাদের মাঝে হারিয়ে যাবো
দূর থেকে দেখে যাবো তোমার মুখোশ
তোমার ভিতরে থাকা শত কষ্ট গুলো ঝেড়ে ফেলতে চাইলেও পারবে না—
আমি তোমার কে ছিলাম সময় থাকতে বুঝলে না।

একদিন হাত দুটোর দিকে তাকিয়ে
চিৎকার করে বলবে প্রথম স্পর্শ ভুলে থাকার নয়
প্রথম প্রেম সত্যি গভীর হয়—

এইভাবে আর কত নিজেকে অন্যকে ঠকিয়ে সুখি হতে চাও! পারবে কি হতে তুমি সুখী?
প্রথম প্রেম ও স্পর্শ মুখোশ পড়লেও ভুলতে পারবে না, আসলেই সারাজীবন থাকবে তুমি দুঃখী?

তোমার মনকে প্রশ্ন করো, নিজের অস্তিত্ব খুঁজে ফেরো
শরীরের দামে মন বিক্রি নয়, মনের দামে শরীর—
মুখোশ পড়ে অন্যের ঘরে সুখ পাবে না কষ্ট হবে রাতদিন।

Saturday, 19 December 2020

নুর হাসান সন্দ্বীপী'র কবিতা "শেষ কবিতা'

তোমাকে নিয়ে একটা উপন্যাস লিখবো ভাবছিলাম
উপন্যাসের দুই লাইন লেখার পরেই মনে হলো তুমি আমার নয়।

উপমা দিয়ে সেই অনেক আগ থেকে লিখছি,
কবিতার ছন্দে পাতায় পাতায় জুড়ে ছিলে শুধুই তুমি—
কখনো কবি হতে চেয়েছি কখনোবা প্রেমিক,
আমাদের গল্পে দুইজন ছিলাম—শুধুই দু'জন।

তোমার কি ফেব্রুয়ারির স্মৃতি মনে পড়ে? এইতো মনে হয় যেন সেদিন!
দেখতে দেখতে ফেব্রুয়ারী গেলো,ফেব্রুয়ারী আসলো—

এখনো স্মৃতি স্বরুপ তোমাকে নিয়ে লেখা সেই কবিতা গুলো সাক্ষী।
সত্যি বলছি—
শুধু কবিতার পাতা জুড়ে নয় মন থেকে তোমাকে ভালোবাসি।

কেন জানি তোমাকে লাল শাড়ী, রেশমি চুড়িতে দেখতে ইচ্ছে করছিলো, দেখা হয়নি—হবে?
হয়তো হবে, তবে আমার হয়ে নয় অন্যকারো সাথে।

একগুচ্ছ কাঁচের চুড়ি নিয়েছিলাম, দেওয়া হলো না। হবে বলেও মনে হচ্ছেনা।
আমার ছোট উপহার রেখো তুমি যতনে—
আমি তোমায় মনে রাখবো মৃত্যুর আগমুহূর্তে থাকবে তুমি স্বরণে।

Monday, 2 November 2020

নুর হাসান সন্দ্বীপী'র কবিতা 'জুলাই আসলেই আমার বয়স কমতে থাকে'

বহুদিন ধরে ভাবছি,
গোপনে গোপনে আয়োজন।
চলে যাচ্ছে বলে যাচ্ছে সময়—
দিনক্ষণ হিসাবে—বেহিসাবে ঘন্টা পেরিয়ে।

তবুও কেন জানি মনে হচ্ছে—আবার হচ্ছেনা,
কিন্তু চিন্তার কোন কারণ নেই—তবুও কেন চিন্তাভাবনা এসে নাড়িয়ে দিচ্ছে? জাগিয়ে দিচ্ছে ভুলন্ত অতীত ঝুলন্ত ভবিষ্যৎ!

ও আচ্ছা—
এইতো সেদিন একবছর পেরিয়ে এসেছি—

ঠিক তারো কয়েকবছর আগে, এইভাবে চলতে চলতে আবারো দিনক্ষণ সাপ্তাহ পেরিয়ে ঠিক কয়েকমাস পরে বছর?

নানান জল্পনাকল্পনার অবসান—অবস্থান ধর্মঘট নামানা ছুটন্ত গাধার পিঠে করে ঘুমান্ত বছর।

আবার এসে গেছে, আবার ফেঁসেগেছে? শহরের যানজট—

বহু বসন্ত ফেরিয়ে—আবারো মনে করতে হচ্ছে
জুলাই আসলেই আমার বয়স কমতে থাকে।

কিছুসংখ্যক মানুষ ভুলে যায়,ভুলে যেতে হয়।ভুলে থাকে নিজের জন্মের দিনক্ষণ সাপ্তাহ মাস তারিখ।

এইভাবেই আস্তে আস্তে চলে মৃত্যুর পূর্বাভাস।

সত্যি বলছি জুলাই আসলেই আমার বয়স কমতে থাকে, কেউ কেউ বুঝাতে থাকে—তবুও লাভ নেই।

এত লাভ দিয়েও কাজ নেই—জীবনে বয়স কমতে থাকে এরপরে আর কোন অংক নেই।

জুলাই আসলেই আমার বয়স কমতে থাকে, এটাতে আলাদা ভাব নেই।

Wednesday, 7 October 2020

নুর হাসান সন্দ্বীপী'র কবিতা "সমকালীন বাস্তবতা"

আরো নারী নির্যাতিত হবে,
আরো নারী হবে বিবস্ত্র—
প্রতিদিন ধর্ষণের শিকার হচ্ছে নারী
মাঝে মাঝে ধর্ষিত হয় বৃদ্ধা-শিশু মিথ্যাচার নয় বাস্তবতা দেখুন।

সবাই বিচার চায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে
কেউ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি মাঝে,
কেউ কেউ বিচারের জন্যে রাস্তায় নামে—রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে।
তবুও কেন বিচারের জন্যে চিৎকার করে মানুষ
রাষ্ট্র যন্ত্রের বিচার বিভাগ কি অন্ধ?

মানুষ গুলো রাষ্ট্রের কাছে বিচার চেয়েও বিচার পায় না
বিচার বিভাগের ঘুম বেড়েছে দুগুণ—

আরো নারী ধর্ষিত হবে, ধর্ষিত হচ্ছে মানুষের বিবেক
হত্যায় মেতেছে বন্ধুরাষ্ট্র, সিমান্ত হত্যার কথা বলা যাবেনা বলা যে মহাপাপ—

এই রাষ্ট্রের দালালী করা যাবে না, করতে হবে বন্ধুরাষ্ট্রের।
না হলে তবে হতে হবে লাশ, তোমার উপরে করা হবে জেল-জুলুম

তুমি ধর্ষণ নিয়ে বলতে পারবে না, তুমি ধর্ষণ নিয়ে কথা বলার কেউ না!
তুমি চিৎকার করার কে? তোমরা জনগণ সমালোচনা করার কে?
অধিকার কি রেখেছে রাষ্ট্র?

আমরা সরকার, রাষ্ট্রের মালিক
জনগণ আছে দিবে হাজারো নালিশ—তাই বলে কি করতে হবে মিমাংসা বসাবো কি সালিশ?

মিডিয়া আমাদের কেনা গোলাম,
টেলিভিশন পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ার আগে জিগ্যেস করতে হয় প্রথম পাতায় কি লিখতাম?

টেলিভিশনের টকশোতে নারীবাদীরা কথা বলে
বাস্তবতায় শূন্য, নারীরা নারীদের পতিতা বানায় মাঝে মাঝে বানায় পণ্য।

রাষ্ট্রের মাঝে থাকতে চাও, দু'বেলা দুমুঠো খেয়ে বাঁচতে চাও অন্ন?
করতে হবে দৃষ্টির অপচয়, সরকারি দলের প্রিয় হলেও জনগণের কাছে তুমি জঘন্য।

রাষ্ট্রে বিচার বহির্ভূত হত্যা হয়, রাষ্ট্র করে গুম খুন নির্যাতন—
কবি-শিল্পী-লেখক-সুশীলেরা বাঁচতে চাই—ওদেরো ভয় করে রাষ্ট্র যদি করে গুম।