Total Pageviews

Thursday, 18 June 2026

নুর হাসান সন্দ্বীপী'র কবিতা "অপেক্ষার মৃত্যু নেই"

অপেক্ষার শেষ নেই—শুরু অনন্তকাল

প্রেম অপেক্ষা করে ভালোবাসার,
ভালোবাসা অপেক্ষা করে স্বীকৃতির,
স্বপ্ন অপেক্ষা করে বাস্তবতার,
বেকারত্ব অপেক্ষা করে চাকরির।

সকাল অপেক্ষা করে সন্ধ্যার,
সন্ধ্যা অপেক্ষা করে রাতের,
রাত অপেক্ষা করে ভোরের।

কেউ অপেক্ষা করে প্রিয় মানুষের,
কেউ একটি ফোনকলের,
কেউ ফিরে আসার,
আর কেউ ভুলে যাওয়ার।

জন্ম থেকে মৃত্যু—জীবনের আরেক নাম,
অপেক্ষা।

অপেক্ষার মৃত্যু নেই—

Tuesday, 26 May 2026

নুর হাসান সন্দ্বীপীর কবিতা “একারও কি একা লাগে?”

এসো বসি;
আলো খুঁজে—অন্ধকার দেখি
হাওয়া দেখি বাতাশ খাই...। 

আচ্ছা স্বপ্নের কি দেশ আছে? দুনিয়া আছে? আলো আছে? বাতাশ আছে? প্রকৃতি আছে? অন্ধকার আছে? নাকি স্বপ্নের স্বপ্ন আছে?
কল্পনা আমাদের কখনো করে না; আমরা কল্পনা করি—জল্পনা করি। 

আজ-কাল কেমন বড্ড একা লাগে, একার কি কখনো একা লাগে? একাকিত্ব ঘুচবে বনলতা কি জীবনানন্দকে খুজবে?

Wednesday, 29 October 2025

সন্দ্বীপের রাজনীতির মাটিতে সততা ও আদর্শের প্রতীক —জননেতা মোস্তফা কামাল পাশা এমপি

সন্দ্বীপের রাজনীতির মাটিতে সততা ও আদর্শের প্রতীক —জননেতা মোস্তফা কামাল পাশা এমপি

লেখকঃ নুর হাসান সন্দ্বীপী, যুগ্ম আহবায়ক—গাছুয়া ইউনিয়ন যুবদল

বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় টাকার প্রভাব যেন রাজনীতির মূল মাপকাঠি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ছোট থেকে বড়— ইউনিয়নের চৌকিদার, কেরানি, মেম্বার বা চেয়ারম্যান— যারাই সুযোগ পাচ্ছে, সবাই যেন অর্থ উপার্জনের প্রতিযোগিতায় নেমেছে।

অর্থই যেন এখন পদ, মর্যাদা ও ক্ষমতার পরিচায়ক।
কিন্তু এই অর্থকেন্দ্রিক রাজনীতির ভিড়ে এমন একজন মানুষ আছেন, যিনি আজও সততা, নীতি ও আদর্শের প্রতীক হয়ে বেঁচে আছেন—
তিনি চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনের তিনবার নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য জননেতা আলহাজ্ব মোস্তফা কামাল পাশা।
১৯৪৭ সালে চট্টগ্রাম জেলার সন্দ্বীপ উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেন মোস্তফা কামাল পাশা।
পিতা হাজী আব্দুল বাতেন সওদাগর এবং মাতা বিবি সখিনা বেগম।
যৌবনের শুরুতেই ছাত্র ইউনিয়নের মাধ্যমে রাজনীতির মাঠে পদার্পণ করেন তিনি।

মাত্র ২৬ বছর বয়সে, ১৯৭৩ সালে, তিনি বিপুল ভোটে রহমতপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
জনগণের অকুণ্ঠ ভালোবাসায় ১৯৭৩ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত টানা চারবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং স্থানীয় উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেন।
১৯৯০ সালের উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট প্রার্থীকে পরাজিত করে আবারও বিপুল ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এই জননন্দিত নেতা।

১৯৯৩ সালে ন্যাপ (ভাসানী) থেকে বিএনপিতে যোগ দেন মোস্তফা কামাল পাশা। ১৯৯৬ সালে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসন থেকে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
রাজনীতির এই পর্যায়ে এসে তিনি শুধু একজন জনপ্রতিনিধি নন—সন্দ্বীপবাসীর কাছে হয়ে ওঠেন বিশ্বাসের প্রতীক।
এক সময় সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও অস্ত্রের দাপটে আতঙ্কে ভরা ছিল সন্দ্বীপ। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সালের সেই অন্ধকার সময়কে আলোয় ফিরিয়ে আনেন মোস্তফা কামাল পাশা।
২০০১ সালের নির্বাচনে তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন—

 “আমি যদি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হই, সন্দ্বীপ থেকে সন্ত্রাস চিরতরে নির্মূল করব।”

জনগণ তাঁর ওপর আস্থা রাখে, এবং ফলাফলও সেই আস্থার প্রতিফলন— তিনি বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন।
অঙ্গীকার রাখেন; মাত্র এক বছরের মধ্যে সন্দ্বীপ হয়ে ওঠে সন্ত্রাসমুক্ত শান্তির দ্বীপ।

২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত মানুষ রাতে দরজা খোলা রেখে ঘুমিয়েছে, ব্যবসা-বাণিজ্য করেছে নির্ভয়ে।
এই অর্জনই তাঁকে সন্দ্বীপবাসীর হৃদয়ে “শান্তির প্রতীক” হিসেবে রেখেছে।

যখন বর্তমান রাজনীতিতে পিয়ন থেকে চেয়ারম্যান পর্যন্ত অনেকেই কোটি কোটি টাকার মালিক,
তখন তিনবারের এমপি মোস্তফা কামাল পাশা ভাড়া বাসায় বসবাস করেন—নিজস্ব গাড়ি পর্যন্ত নেই।
ব্যক্তিগত জীবনে নির্লোভ, সাহসী ও সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত এই রাজনীতিক ২০১৪ সালে নিজের চিকিৎসার জন্য বাপের রেখে যাওয়া জমি বিক্রি করেন।
রাজনীতি তাঁর কাছে কখনোই অর্থ উপার্জনের মাধ্যম ছিল না; ছিল মানুষের সেবা ও ন্যায়ের সংগ্রামের পথ।
বিগত কয়েক মাস ধরে কিছু কুচক্রী মহল সামাজিক মাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালালেও
সন্দ্বীপবাসীর ভালোবাসা তাঁকে আরও শক্তিশালী করে তুলেছে।
যেখানে অনেক নেতা জনপ্রিয়তা হারাচ্ছেন, সেখানে মোস্তফা কামাল পাশা এখনো জনতার হৃদয়ের মণিকোঠায়।
তিনি সন্দ্বীপের রাজনীতিতে এক জীবন্ত কিংবদন্তি।
আজও যখন তিনি রাস্তায় হাঁটেন—মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভিড় জমায়, মিছিল তৈরি হয়।

রাজনীতি মানেই এখন যেখানে অর্থ, সেখানে মোস্তফা কামাল পাশা যেন এক ব্যতিক্রমী উদাহরণ।
তিনি প্রমাণ করেছেন—সততা, আদর্শ, ও জনগণের ভালোবাসাই প্রকৃত রাজনীতির ভিত্তি।
সন্দ্বীপের মানুষ আজও বিশ্বাস করে—
একজন মোস্তফা কামাল পাশা মানেই শান্তির প্রতীক, উন্নয়নের প্রতীক, আর সর্বোপরি জনগণের নেতা।

Sunday, 19 October 2025

নুর হাসান সন্দ্বীপী'র কবিতা "প্রবাসীর শেষ ফিরে আসা"

সকাল শিশিরের ছোঁয়া পাওয়া নরম ঘাসের উপর বসে আছে নীরবতা,
চারিদিকে কান্নাভেজা কণ্ঠ—
বাতাসও যেন আজ ভারি হয়ে গেছে ব্যথায়।

মনের গভীরে চাপা কষ্টের ঢেউ,
চোখের কোণে জমে থাকা অশ্রু,
এদিক তাকাও, ঐদিকে কফিনবন্দি লাশ—
চেনা মুখ, তবুও অচেনা এখন।

লাশের সারি দেখে বুকটা ভারি হয়ে আসে,
সেই কয়েকদিন আগেও তারা হাসছিল, বলছিল—
"ভালো থেকো, আবার দেখা হবে..."
কিন্তু এভাবেও চলে যাওয়া যায়,
এভাবেও চলে যেতে হয়—
ফিরে আসে শুধু নিস্তব্ধ কাঠের বাক্সে বন্দি প্রবাসের গল্প।

বিদায় না নিয়ে চলে গেলে কি বিদায় দেওয়া হয়?
তবুও দিতে হয়—
চোখের জলে, দোয়ার কথায়,
মাটির বুকে ঠাঁই দেওয়ার সময় বুক ভেঙে কাঁদতে হয়।

কারণ, প্রবাসীদের লাশ বলে কথা—
তাদের ফেরা হয় নিস্তব্ধতায়,
তাদের গল্প শেষ হয় বিমানবন্দরের নিরব গেটের ওপারে,
যেখানে আলিঙ্গন নেই, শুধু অশ্রু ঝরে নিঃশব্দে।

গাছুয়া ঘাট—এক ইতিহাস, এক স্মৃতি

গাছুয়া ঘাট তথা আমীর মোহাম্মদ ফেরিঘাট শুধুমাত্র একটি যাতায়াতের স্থান নয়, এটি সন্দ্বীপবাসীর জীবনের সঙ্গে মিশে থাকা এক টুকরো ইতিহাস, এক বিশাল স্মৃতির ভাণ্ডার।
যারা ৯০ দশকের মানুষ, তাদের কাছে এই ঘাটের চিত্র এখনো একদম স্পষ্ট— সেই কাদা মাটির পথ, জোয়ার-ভাটার সময়ের হিসাব, মানুষের ভিড় আর লঞ্চের হুইসেলের শব্দ যেন এখনো কানে বাজে।
২০০০ সালের দিকেও গাছুয়া ঘাট ছিল অনেকের জীবনের প্রথম যাতায়াতের দ্বার। আমার মামা শফিকুল আলম কেরানি (প্রকাশ শফি কেরানি) এই ঘাটের লঞ্চে চাকরি করতেন। সেই সুবাদে, আর বাড়ির কাছাকাছি হওয়ায়, আমাদের যাতায়াত হতো প্রায়ই এই ঘাট দিয়েই।

আমার খালার বাড়ি শুকলালহাটে হওয়ায় আমাদের জন্য এটি ছিল একধরনের সুবিধাজনক পথ— কখনো একদিন, কখনো দুই দিন খালার বাড়ি থেকে তারপর শহরের পথে রওনা হতাম।

এই ঘাটের যৌবনকাল অনেকেই দেখেছেন— কত আনন্দ, কত দুঃখ, কত হাসি-কান্নার স্মৃতি লুকিয়ে আছে এই ঘাটের ঢেউয়ে। সময়ের সঙ্গে অনেক ইজারাদার এসেছেন, ঘাটের রূপ বদলেছে, তবুও কিছু সমস্যা ছিলো— কাঁদামাটির মধ্যে হেঁটে লঞ্চ বা স্পিডবোটে উঠতে হতো, আবার কখনো জোয়ার-ভাটার সময় মেনে চলাফেরা করতে হতো।

আমার এখনো মনে আছে— চট্টগ্রামের কোলে লঞ্চের অপেক্ষায় মানুষের ভিড়, কেউ বাগানে বসে আড্ডা দিচ্ছে, কেউ পরিবার নিয়ে অপেক্ষা করছে… সময় যেন থেমে থাকত। সেই দিনগুলো এখন শুধু স্মৃতি।

আজকের দিনে কুমিরা ও গুপ্তচরার ফেরিঘাটের আধুনিকায়নের ফলে সেই দৃশ্যগুলো অনেকটাই বিরল। এখন মানুষের হাতে সময় কম, পকেটে টাকা বেশি— তাই আর অপেক্ষা নয়। সন্দ্বীপ থেকে চট্টগ্রাম যাওয়া এখন অনেক সহজ। আধুনিক লঞ্চ, স্টিমার, মালবাহী বোট, এমনকি দ্রুত স্পিডবোট— সবই এখন মানুষের নাগালে।
এখন কেউ চাইলে সকালে চট্টগ্রাম গিয়ে নিজের কাজ সেরে দুপুরে বাড়ি ফিরে ভাত খেতে পারে— একসময় যা ছিল অকল্পনীয়।

কুমিরা ও গুপ্তচরা ঘাটের পাশাপাশি এখন আবার নতুনভাবে চালু হয়েছে গাছুয়া আমীর মোহাম্মদ ফেরিঘাট। যাত্রীদের সুবিধার কথা চিন্তা করে কর্তৃপক্ষ রাস্তা-ঘাট ও আশেপাশের জায়গাগুলোর সংস্কার করেছে— এটি সত্যিই প্রশংসনীয় উদ্যোগ।

শুরুর দিকে এক বা দুই দিন স্পিডবোটের ভাড়া ছিল ৪০০ টাকা, কিন্তু সাধারণ মানুষের মতামত ও সমালোচনা বিবেচনা করে কর্তৃপক্ষ ৩০০ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করেছে— যা সত্যিই যাত্রীবান্ধব পদক্ষেপ। আমি এই উদ্যোগের জন্য ঘাট কর্তৃপক্ষকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও সাধুবাদ জানাই।

কেন আপনি আমীর মোহাম্মদ ফেরিঘাট দিয়ে যাতায়াত করবেন?

যদি আপনার বাড়ি উত্তর সন্দ্বীপের ইউনিয়নগুলোতে হয়— যেমন গাছুয়া, বাউরিয়া, সন্তোষপুর, আমানউল্লাহ বা কালাপানিয়া— তাহলে শীতের মৌসুমে গাছুয়া ঘাট দিয়ে চলাচল করা হবে সবচেয়ে আরামদায়ক ও সময় সাশ্রয়ী।

👉 আপনি সহজেই ঘাটে পৌঁছে টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন,
👉 দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হবে না,
👉 আর কোনো সমস্যায় পড়লে সরাসরি ঘাট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেই সমাধান পেতে পারবেন।

আমি ব্যক্তিগতভাবে সন্দ্বীপের সকল প্রবাসী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতি অনুরোধ জানাই —
অন্তত একবারের জন্য হলেও গাছুয়া আমীর মোহাম্মদ ফেরিঘাট হয়ে বাঁশবাড়িয়া ফেরিঘাটে যাতায়াত করুন।
নিজেই দেখবেন, যাত্রাটা কতটা আনন্দদায়ক, কতটা স্মৃতিময়।

আপনাদের প্রতিটি যাত্রা হোক নিরাপদ, সুন্দর ও আনন্দময়।
গাছুয়া ঘাট আবার ফিরে পাক তার সেই পুরনো প্রাণ, পুরনো ঐতিহ্য।

Monday, 19 May 2025

নুর হাসান সন্দ্বীপীর কবিতা "প্রতীক্ষা"

আমাদের এককোটি বছর পর দেখা হোক,
হয়তো কোনো বেঞ্চে বসা,
হাতে থাকুক একটি কবিতার বই—

তোমার প্রিয় কবির অথবা আমার লেখা কোনো অজানা পঙক্তি।
চায়ের কাপ থেকে উঠুক ধোঁয়া—
স্মৃতির মতো ধীরে ধীরে মিলিয়ে যাওয়া কিছু কথা।
সকাল থাকুক—শিশিরে ভেজা হৃদয়ের মতো,
দুপুর হোক অলস—হৃদয়ের গভীরে জমে থাকা নিঃশব্দ ডাক।
বিকেল নামুক হালকা রোদে—চোখের পাতায় পুরোনো চিঠির ছায়া ফেলে।
আর সন্ধ্যা? নাইবা আসুক,
কোনো এক আলোছায়ার মোহে আমরা হারিয়ে যাই
তবুও—তোমায় কাছে পাওয়া হোক।
এই অপেক্ষার নাম হয়তো "এককোটি বছর",
তবু যদি সে আসে,
চুপিচুপি, কোনো শান্ত সকালে—
তবে সেই দিনই হোক আমাদের নতুন প্রথম দিন।

Friday, 23 April 2021

নুর হাসান সন্দ্বীপী'র কবিতা 'একটি রাত'

তোমারে লইয়া একটা রাত ঘুরতে চাই,
শহরের অলিতে-গলিতে এদিক ঐদিক যায়!
খোলাচুল—কাঁচাপাতি চিনি ছাড়া অথবা চিনি সহ এককাপ চা বা কফি ভিতরে ডুবতে ডুবতে— 

ঠোঁটের গভীরতা মাপার যন্ত্রের খোঁজে—নতুন যন্ত্র আবিষ্কার,
টঙ্গের দোকানের কাঁচা সুপারি—নানান জর্দা, লুকিয়ে থাকা হরেক মসলা যুক্ত খিলিপান—সিগারেট—চুইংগাম...। 

হাটতে হাটতে জীবনানন্দের কবিতা—নজরুল গীতি—উপন্যাসের কয়েক লাইন আরো নানান আলোচনার ভিতরে তোমার গভীরতা মাপতে গিয়ে গভীরে হারিয়ে যাওয়া। 

গভীরের গভীরতা থেইকা বেড়িয়ে আসার বিন্দু পরিমাণ ইচ্ছা নাই—আকাশের দিকে তাকিয়ে মৃদু বাতাশে শরীরের সুভাষ—
তোমারে লইয়া দুনিয়ার জমিনে বইসা কল্পনার জগতে হারাতে চাই।
হঠাৎ আকাশে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে—বুকের গভীরে থাকা হৃদয়ের এককোণে খুব যত্নে তোমার বিশ্রাম,
জড়িয়ে ধরে—সারাজীবন জড়িয়ে রাখার প্রতিশ্রুতিতে বহমান জীবনমান—
তোমারে লইয়া একটা রাত ঘুরতে চাই,
যে রাতে তুমি আমি আমরা ছাড়া কেউ নাই—

Monday, 8 March 2021

সম্পর্ক — নুর হাসান সন্দ্বীপী

সম্পর্ক একটি মাত্র শব্দ হলেও এটার বাস্তব হিসেব নিকেশ অনেক বড়। কেউ এই সম্পর্ক রক্ষার জন্য যুদ্ধ ঘোষণা করে কেউ বা সম্পর্ক নষ্টের জন্য যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে।

পৃথিবীর প্রত্যেক সম্পর্ক সুন্দর ও রক্ষা করার জন্যে প্রয়োজন আন্তরিকতা ও সৎ চিন্তাভাবনা এবং মানসিকতা। আপনি মানসিক ভাবে যদি স্থির না থাকেন তাহলে কোন সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে পারবেন না।

বর্তমান সময়ে প্রেম-ভালোবাসা ও বিয়ের প্রবণতা বেড়েছে। পাশাপাশি সম্পর্ক বিচ্ছেদের প্রবণতা বেড়েছে। অধিকাংশ সম্পর্ক বিচ্ছেদের জন্য দায়ী বিয়ের আগের সম্পর্ক ও বিয়ের পরের সম্পর্ক।

তবে আমি ব্যক্তিগত ভাবে মনে করি। বিয়ের আগের সম্পর্ক গুলোকে টিকিয়ে রাখা প্রয়োজন। কেন না—বর্তমান সময়ে একজন ছেলে ও মেয়ে তার জীবন সঙ্গীকে ঠিকঠাকমতো চিনে নেওয়া উওম। জানাশোনা এবং শ্রদ্ধা থাকলে ভবিষ্যতে একসাথে চলতে সমস্যা হবে না। তবে খেয়াল রাখতে হবে এমন কিছু করা যাবে না। যেটা ছেলে এবং মেয়ের জন্য ক্ষতিকর।

বিয়ে পরে ছেলে অথবা মেয়ে এমন কোন ব্যক্তির সাথে কোনপ্রকার সম্পর্কে না জড়ানো উওম। এতে পরিবার ও নিজের সম্মান বাঁচে পাশাপাশি কোনপ্রকার প্যারা নেওয়ার ঝামেলা নেই।

তবে আরেকটা সত্যি কথা হলো। বর্তমান সময়ের সম্পর্ক গুলো যেন কচুরিপানার মত উপরে সবুজ সুন্দর নিচে নানান রকমের ময়লাতে ভরা। ছেলে এবং মেয়ে দুইজন দুইজনের সময় কাটানোর জন্য প্রেম করে। শতে হাজারে কয়েকজন পাওয়া যাবে যারা সত্যিকার অর্থে ভালোবাসে।

কিছুকিছু সময় দেখা যায়। ছেলে মেয়ের সাথে বেইমানি করে আবার মেয়ে ছেলের সাথে বেইমানি করে। তবে আমি সেই সম্পর্ক গুলোকে ট্রু লাভ বলি না। আমি মনে করি সস্তা দিনের বস্তা ভরা পচাঁ ভালোবাসা।

কারো সাথে সম্পর্ক করার আগে বারবার ভাবুন। সে আসলে আপনার সম্পর্কের মর্যাদা রাখতে পারবে কিনা। সে আসলে আপনাকে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে পারবে কিনা। দুনিয়াতে কেউ কাউকে ষোলো আনা ভালোবাসে না বিশ্বাস করে না করবে না। তারপরও জীবন চলার জন্য সম্পর্কের গুরুত্ব অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

তবে খুব কাছের বন্ধুকে টাকাপয়সা ধার দেওয়া থেকে দূরে থাকুন। আর যদিও দেন তাহলে সেই টাকা পাওয়ার আশা করে না দেওয়া উওম। কেন না বন্ধুদের সাথে সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার জন্য টাকার ভূমিকা অপরিসীম।

কারো সাথে যদি সম্পর্ক নষ্ট হয় এটা নিজে জল গোলা করার কিছুই নেই। ভেবে নিবেন এই দুনিয়াতে সম্পর্ক হলো ঋতুর মত—সময়ের প্রয়োজনে পরিবর্তন বাধ্যতামূলক।

তবে পরিশেষে একটা কথাই বলবো। হাজারো প্রতিকূলতার মাঝে কখনো সম্পর্ক নষ্ট করার চেষ্টা করবেন না। চেষ্টা করবেন যেভাবেই হোক সম্পর্ক টিকিয়ে রাখবেন। তাহলে ইনশাআল্লাহ একদিন আপনি আমি আমরা একটা সফল সুন্দর ও ভালো দিন দেখবো।

Friday, 12 February 2021

নুর হাসান সন্দ্বীপী'র কবিতা 'বই'

আমারো ইচ্ছে আছে,

এইভাবে ঠিক এইভাবে—

ঘরের কোন একটা রুমের ভিতরে সাজিয়ে ঘুচিয়ে রাখবো হরেক রকমের বই।

কবিতা—গল্প—উপন্যাস কিংবা ছোট গল্প থেকে শুরু করে পেপার পত্রপত্রিকা।
নজরুল থেকে জীবনানন্দ দাঁস—ঈশ্বর চঁন্দ্র হতে রবীন্দ্রনাথ—সহ হাজারো কবি-সাহিত্যিকদের বই...।

প্রতিদিন সকালে অথবা সন্ধ্যায় চায়ের কাপে চুমুকের সাথে সাথে হাতে থাকবে একটি বই।
বই আমি তোমার হতে চাই তুমি কই?


Monday, 8 February 2021

বিয়ে নিয়ে ছোটখাটো খুটিনাটি জেনে রাখা উওম

প্রতিদিন দেশের আনাচে-কানাচেতে কমবেশি বিয়ে হচ্ছে। প্রতিনিয়ত সুন্দর জীবন গড়ার তাগিদে দুইজন ব্যক্তির সর্বসম্মতিক্রমে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছে। বিয়ে করা কোন খারাপ কিছু নয়৷ তবে খারাপ কাউকে বিয়ে করা মানে জীবনে একটা অভিশাপ ডেকে আনা। সেই অভিশাপ অবিশ্বাসের জন্ম দিয়েই ভবিষ্যতে অন্ধকার দেখা ছাড়া কোন পথ নেই।

আমাদের সমাজে অধিকাংশ বিয়ে গুলো ধর্মীয় ও সামাজিক রীতিনীতি মেনেই হয়৷ এক পরিবার আরেক পরিবারের সবকিছু কমবেশি যাচাই-বাছাই করে। একটা সময় সব যাচাই-বাছাই করার পরেও ছোটখাটো কিছু বিষয় গোপন থেকে যায়। সেই গোপন বিষয় গুলো জানার জন্য হাজার চেষ্টা করলেও কোন কোন সময়ে জানা সম্ভব হয়ে উঠে না। তবে বিয়ের পরে সেই গোপন বিষয় গুলো সামনে আসে যখন তেমন কিছুই করার থাকে না। তবে ঐসব অজানা থাকার মাধ্যমে একটি সুন্দর সম্পর্কের সৃষ্টির চেষ্টা চলে। ইদানীং আমাদের দেশে মেয়ে একটু সুন্দর হলে বা শিক্ষাদীক্ষা বেশি থাকলে অথবা মেয়ের পরিবার পয়সাওয়ালা হলে কাবিনের অংকের পরিমাণ বেশি হয়ে যায়। আজকাল এটা একটা প্রথা হিসেবে চালু হয়েগেছে। একটু বেশিই জোট খাটিয়ে কাবিননামা করা হয়। কাবিননামা কম হলে নাকি মেয়েকে ছোট করা হয়। আমি ব্যক্তিগত ভাবে মনে করি। বর্তমান সময়ে ইসলামিক শরীয়ত মোতাবেক যদি বিয়ের সবকিছু আয়োজন করা হয়। তাহলে একটা ছেলে ও মেয়ের বিয়ে হতে অনেক জটিলতা শুরু হবে। যদিও ইসলাম বলছে বিয়েসাদীর বিষয়টা সংক্ষিপ্ত করতে। চোরে না শুনে ধর্মের কাহিনী। বর্তমান সময়ের অধিকাংশ বিয়েতে কাবিননামার পরিমাণ ৫লক্ষের উপরে থাকে—
অপরদিকে ছেলে পক্ষ যৌতুক নেওয়ার আধুনিক কৌশল অবলম্বন করে। শুরুতেই বলে আমাদের কাছে আপনাদের মেয়ে বিয়ে দিলে আপনারা পানের উপরে চুন দেওয়া লাগবে না। বিয়ের কিছুদিন পরের চিত্র ভিন্ন রূপ নেয়। তখন এই যৌতুকের জন্য সংসার জীবনে অশান্তির সৃষ্টি হয়। আর সেই অশান্তি থেকেই অনেক সংসার টিকে থাকতে মেয়ের পরিবার নানান কিছু দিয়ে খুশি রাখার চেষ্টা করে৷ একটা সময় দিতে হিমসিম খেলে তখন মেয়ের উপরে অত্যাচার করা হয় এমন কি মাঝে মাঝে তালাক দেওয়া হয়।

আজকালকার মেয়েরাও কম যায় না। কোন কোন সময় দেখা যায়৷ মেয়েরা নিজের ইচ্ছেতে সংসার করবে না বলে তালাক দেয়৷ পরকিয়া করেই স্বামীতে তালাক দেয়। আর তালাক দেওয়ার পরেই কাবিনের বিশাল অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়ে যায়।
আসুন এবার সমকালীন সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার কথায়। বিশ্ব এখন ডিজিটাল—ডিজিটাল বিশ্বে সবকিছু কমবেশি হাতের মুঠোয়। আমাদের সমাজে বর্তমান সময়ে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো। ছেলে মেয়ের বিয়ের আগের সম্পর্ক। যেটা ইসলামীক শরিয়ত মোতাবেক সম্পূর্ণ হারাম। এই হারাম সম্পর্ক গুলো কিছু সময় টিকে গেলেও অধিকাংশ সম্পর্ক ভেঙে যায়। দেখা গেলো ছেলে মেয়ে শয়তানের প্রবঞ্চনায় পড়ে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়। একটা সময় সেই মুহুর্ত গুলোর ভিডিও অডিও ছবি গুলো দেখিয়ে নানান প্রকার সমস্যার সৃষ্টি করে যে কোন একটা পক্ষ। তাই আপনি যাকে বিয়ে করবেন। বিয়ের আগে যেভাবেই হোক তার বিস্তারিত জানুন। এরপরে তাকে আপনার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে স্থান দিন। যদি দেখেন ছেলে অথবা মেয়ের এমন কোন সম্পর্ক আছে। তাহলে আমি ব্যক্তিগত ভাবে মনে করি তাকে বিয়ে না করা উওম। কেন যে ছেলে অথবা মেয়ে বিয়ের আগে জেনা করে সে বিয়ের পরেও জেনা করতে ভয় পাবে না। এমন মানুষকে বিয়ে করলে মৃত্যুর আগ পযন্ত আপনাকে নানান সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে। সাংসারিক জীবনে সুখের চেয়ে দুঃখের পরিমাণ বেশি হবে।
কোন কোন সময় প্রাক্তন গুলো নানান প্রকার সমস্যার সৃষ্টি করে। আপনার দাম্পত্য জীবনে ঘুর্ণিঝড় সৃষ্টি করে দিবে। সেই ঘুর্ণিঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে আমি সর্বস্ব হারাবেন। আপনার একটি মাত্র ভুলের কারণে আমি আপনার পরিবার ও সমাজ এবং বন্ধুবান্ধবের কাছে মুখ দেখাতে পারবেন না।

বিয়ে করার আগে আরেকটা বিষয় গুরুত্ব দেওয়া দরকার। ছেলে ও মেয়ে নেশাগ্রস্ত কিনা! নেশাগ্রস্ত ছেলে মেয়ে বিয়ে না করা উওম।

Monday, 18 January 2021

নুর হাসান সন্দ্বীপী'র কবিতা 'প্রথম নই শেষ'

কোন এক গোধুলির শেষ বিকালে হাতে হাত—চোঁখে চোঁখ রেখে...
মনের সাথে মনের স্পর্শ করে স্পষ্ট ভাষায় বলেছিলে
আমি তোমার প্রথম নই—শেষ হতে চাই...।
তোমার আকাশের বৃষ্টি হয়ে রিমঝিম রিমঝিম করেই ঝড়তে চাই—

মেঘাচ্ছন্ন আকাশে চাঁদের আলো কি ভাবা যায়?
সন্ধ্যা না হলেই তারার দেখা কি পাওয়া যায়?
তুমি বলেছিলে—পাশে থাকবে আজীবন,
তুমি-ই প্রথম, তুমি-ই শেষ তোমাতে সারাক্ষণ।
আমি তোমার প্রথম নই—শেষ হতে চাই; যদি কোমল হৃদয়ে ঠাঁই পাই।

সেইদিনের সেইসব কথা গুলো কি মনে পড়ে তোমার?
চোঁখের ভাষায় প্রকাশ হয়েছিলো মনের সব ভাষা—
আজ কেন হতে চাও পরবাসী; হঠাৎ আলাদা?
আমাদের ভালোবাসা কি মিথ্যে ছিলো; স্বপ্ন গুলোর মাঝে কি অভিনয় লুকানো?

হয়তো ভরসা করে ছিলাম তোমাতে; অভিনয়ে—মোর প্রেম ছিলোনা অভিনয়।
আমি তোমার থাকতে চেয়ে ছিলাম আজীবন—
আমি তোমার প্রথম নই শেষ হতে চাই, তোমার এপাড়ের না হয় ওপাড়ের সঙ্গী হতে চাই।

Tuesday, 12 January 2021

নুর হাসান সন্দ্বীপী'র কবিতা 'পৃথিবীর পথ'

জীবনানন্দ দাঁস এখনো পড়া হয় নাই—হবে?
হয়তো হবে—একটু পরে-
হাজার বছর ধ’রে আমি পথ হাঁটিতেছি পৃথিবীর পথে,
কবিতা, গল্প, উপন্যাস পড়তে পড়তে হয়তো ক্লান্ত হবো—
বিশ্রাম আমাকে খুঁজবে, আমি বিশ্রামকে বিশ্রাম দিয়ে ছুটে যাবো আশ্রামের ধারে।

সেই দিন, স্মৃতি বিজড়িত ঘটনার সাক্ষী হয়ে থাকবে গাছ তরুলতা কীটপতঙ্গ নারী পুরুষ ও যুব সমাজ।
তোমার এলাকার পাশ দিয়ে হাটা চলা করা স্মৃতি হয়তো লিপিবদ্ধ করবো।

লিপিবদ্ধ কবিতার গুচ্ছ গুলো কেউ তুলে নিবে পাঠ্যবই সহ নানান পত্রিকায়।
তোমাকে লিপিবদ্ধ করার বড্ড ইচ্ছে ছিলো, হয়নি হয়ে উঠেনি—উঠবে না।

পৃথিবীর থেকেও বড় সূর্য থাকতে মোমবাতির জ্বলন্ত আগুনে দেখা ইচ্ছে নেই তোমাকে—

হাজার বছর ধরে অপেক্ষা করে যাবো তোমার জন্য, তোমাকে খুঁজে হয়তো পাবো। হয়তোবা না পাওয়ার বেদনায় সব হারাবো...পৃথিবীর পথে।

Tuesday, 22 December 2020

নুর হাসান সন্দ্বীপী'র কবিতা 'মুখোশ'

একটা সময় আসবে
সকাল দুপুর সন্ধ্যা আমাকে খুজবে—
সেদিন রাতের আকাশের চাঁদের দিকে তাকিয়ে
চিৎকার করে কান্নাকাটির পাশাপাশি বুঝবে।

তোমার শরীরের প্রতিটা রক্ত কণা
সবকিছুই আমার জানা—
সত্যি তুমি আমাকে খুজবে,
তারাদের পাশে দাঁড়িয়ে তোমাকে দেখে যাবো নীরবে।

বহু তারাদের মাঝে হারিয়ে যাবো
দূর থেকে দেখে যাবো তোমার মুখোশ
তোমার ভিতরে থাকা শত কষ্ট গুলো ঝেড়ে ফেলতে চাইলেও পারবে না—
আমি তোমার কে ছিলাম সময় থাকতে বুঝলে না।

একদিন হাত দুটোর দিকে তাকিয়ে
চিৎকার করে বলবে প্রথম স্পর্শ ভুলে থাকার নয়
প্রথম প্রেম সত্যি গভীর হয়—

এইভাবে আর কত নিজেকে অন্যকে ঠকিয়ে সুখি হতে চাও! পারবে কি হতে তুমি সুখী?
প্রথম প্রেম ও স্পর্শ মুখোশ পড়লেও ভুলতে পারবে না, আসলেই সারাজীবন থাকবে তুমি দুঃখী?

তোমার মনকে প্রশ্ন করো, নিজের অস্তিত্ব খুঁজে ফেরো
শরীরের দামে মন বিক্রি নয়, মনের দামে শরীর—
মুখোশ পড়ে অন্যের ঘরে সুখ পাবে না কষ্ট হবে রাতদিন।

Saturday, 19 December 2020

নুর হাসান সন্দ্বীপী'র কবিতা "শেষ কবিতা'

তোমাকে নিয়ে একটা উপন্যাস লিখবো ভাবছিলাম
উপন্যাসের দুই লাইন লেখার পরেই মনে হলো তুমি আমার নয়।

উপমা দিয়ে সেই অনেক আগ থেকে লিখছি,
কবিতার ছন্দে পাতায় পাতায় জুড়ে ছিলে শুধুই তুমি—
কখনো কবি হতে চেয়েছি কখনোবা প্রেমিক,
আমাদের গল্পে দুইজন ছিলাম—শুধুই দু'জন।

তোমার কি ফেব্রুয়ারির স্মৃতি মনে পড়ে? এইতো মনে হয় যেন সেদিন!
দেখতে দেখতে ফেব্রুয়ারী গেলো,ফেব্রুয়ারী আসলো—

এখনো স্মৃতি স্বরুপ তোমাকে নিয়ে লেখা সেই কবিতা গুলো সাক্ষী।
সত্যি বলছি—
শুধু কবিতার পাতা জুড়ে নয় মন থেকে তোমাকে ভালোবাসি।

কেন জানি তোমাকে লাল শাড়ী, রেশমি চুড়িতে দেখতে ইচ্ছে করছিলো, দেখা হয়নি—হবে?
হয়তো হবে, তবে আমার হয়ে নয় অন্যকারো সাথে।

একগুচ্ছ কাঁচের চুড়ি নিয়েছিলাম, দেওয়া হলো না। হবে বলেও মনে হচ্ছেনা।
আমার ছোট উপহার রেখো তুমি যতনে—
আমি তোমায় মনে রাখবো মৃত্যুর আগমুহূর্তে থাকবে তুমি স্বরণে।

Monday, 2 November 2020

নুর হাসান সন্দ্বীপী'র কবিতা 'জুলাই আসলেই আমার বয়স কমতে থাকে'

বহুদিন ধরে ভাবছি,
গোপনে গোপনে আয়োজন।
চলে যাচ্ছে বলে যাচ্ছে সময়—
দিনক্ষণ হিসাবে—বেহিসাবে ঘন্টা পেরিয়ে।

তবুও কেন জানি মনে হচ্ছে—আবার হচ্ছেনা,
কিন্তু চিন্তার কোন কারণ নেই—তবুও কেন চিন্তাভাবনা এসে নাড়িয়ে দিচ্ছে? জাগিয়ে দিচ্ছে ভুলন্ত অতীত ঝুলন্ত ভবিষ্যৎ!

ও আচ্ছা—
এইতো সেদিন একবছর পেরিয়ে এসেছি—

ঠিক তারো কয়েকবছর আগে, এইভাবে চলতে চলতে আবারো দিনক্ষণ সাপ্তাহ পেরিয়ে ঠিক কয়েকমাস পরে বছর?

নানান জল্পনাকল্পনার অবসান—অবস্থান ধর্মঘট নামানা ছুটন্ত গাধার পিঠে করে ঘুমান্ত বছর।

আবার এসে গেছে, আবার ফেঁসেগেছে? শহরের যানজট—

বহু বসন্ত ফেরিয়ে—আবারো মনে করতে হচ্ছে
জুলাই আসলেই আমার বয়স কমতে থাকে।

কিছুসংখ্যক মানুষ ভুলে যায়,ভুলে যেতে হয়।ভুলে থাকে নিজের জন্মের দিনক্ষণ সাপ্তাহ মাস তারিখ।

এইভাবেই আস্তে আস্তে চলে মৃত্যুর পূর্বাভাস।

সত্যি বলছি জুলাই আসলেই আমার বয়স কমতে থাকে, কেউ কেউ বুঝাতে থাকে—তবুও লাভ নেই।

এত লাভ দিয়েও কাজ নেই—জীবনে বয়স কমতে থাকে এরপরে আর কোন অংক নেই।

জুলাই আসলেই আমার বয়স কমতে থাকে, এটাতে আলাদা ভাব নেই।

Wednesday, 7 October 2020

নুর হাসান সন্দ্বীপী'র কবিতা "সমকালীন বাস্তবতা"

আরো নারী নির্যাতিত হবে,
আরো নারী হবে বিবস্ত্র—
প্রতিদিন ধর্ষণের শিকার হচ্ছে নারী
মাঝে মাঝে ধর্ষিত হয় বৃদ্ধা-শিশু মিথ্যাচার নয় বাস্তবতা দেখুন।

সবাই বিচার চায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে
কেউ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি মাঝে,
কেউ কেউ বিচারের জন্যে রাস্তায় নামে—রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে।
তবুও কেন বিচারের জন্যে চিৎকার করে মানুষ
রাষ্ট্র যন্ত্রের বিচার বিভাগ কি অন্ধ?

মানুষ গুলো রাষ্ট্রের কাছে বিচার চেয়েও বিচার পায় না
বিচার বিভাগের ঘুম বেড়েছে দুগুণ—

আরো নারী ধর্ষিত হবে, ধর্ষিত হচ্ছে মানুষের বিবেক
হত্যায় মেতেছে বন্ধুরাষ্ট্র, সিমান্ত হত্যার কথা বলা যাবেনা বলা যে মহাপাপ—

এই রাষ্ট্রের দালালী করা যাবে না, করতে হবে বন্ধুরাষ্ট্রের।
না হলে তবে হতে হবে লাশ, তোমার উপরে করা হবে জেল-জুলুম

তুমি ধর্ষণ নিয়ে বলতে পারবে না, তুমি ধর্ষণ নিয়ে কথা বলার কেউ না!
তুমি চিৎকার করার কে? তোমরা জনগণ সমালোচনা করার কে?
অধিকার কি রেখেছে রাষ্ট্র?

আমরা সরকার, রাষ্ট্রের মালিক
জনগণ আছে দিবে হাজারো নালিশ—তাই বলে কি করতে হবে মিমাংসা বসাবো কি সালিশ?

মিডিয়া আমাদের কেনা গোলাম,
টেলিভিশন পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ার আগে জিগ্যেস করতে হয় প্রথম পাতায় কি লিখতাম?

টেলিভিশনের টকশোতে নারীবাদীরা কথা বলে
বাস্তবতায় শূন্য, নারীরা নারীদের পতিতা বানায় মাঝে মাঝে বানায় পণ্য।

রাষ্ট্রের মাঝে থাকতে চাও, দু'বেলা দুমুঠো খেয়ে বাঁচতে চাও অন্ন?
করতে হবে দৃষ্টির অপচয়, সরকারি দলের প্রিয় হলেও জনগণের কাছে তুমি জঘন্য।

রাষ্ট্রে বিচার বহির্ভূত হত্যা হয়, রাষ্ট্র করে গুম খুন নির্যাতন—
কবি-শিল্পী-লেখক-সুশীলেরা বাঁচতে চাই—ওদেরো ভয় করে রাষ্ট্র যদি করে গুম।

Sunday, 6 September 2020

নুর হাসান সন্দ্বীপী'র কবিতা "শেষ চিঠি"

তোমার খোঁজ পাচ্ছি না
বাড়ীর আশপাশে ঘুরছি
এদিক ওদিক করেও পাচ্ছি না—
ব্যস্তময় সময় যেন আরো ব্যস্ত লাগছে।

তুমি কি এখানে আছো,
নাকি চলে গেছো কোন ব্যস্ত শহরে?
ইট-পাথরের তৈরি কোন ধনীর দুলালের ঘরে?
জানি হয়তো সুখে আছো অথবা সুখে থাকার অভিনয় করে যাচ্ছো....।

জানি তুমি ভালোবাসতে কাঁচা অভিনয়ের মাঝে রয়েছে চরম দক্ষতা—
কেন জানি জানতে ইচ্ছে হচ্ছে খুব
তোমার পড়ার টেবিলে থাকা রঙিন খামের ভিতরে লেখা গুলো কি পড়ছিলে?
নাকি সময় হয়নি পড়বে পড়বে বলে রেখে দিয়েছিলে পরে?

সেই চিঠির উওর মিলছে না যে!
নাকি চিঠির ভাষা বুঝোনি? বুঝোনি আমার মনের ভাষা?
আমিতো তোমাকে চেয়েছিলাম, ভেবেছিলাম শেষ ভরসা।

জানি বহুদিন ধরে তোমাকে লিখছি না
তোমাকে নিয়ে হচ্ছে না চর্চা—
এটাই হয়তো শেষ চিঠি, এটাই শেষ ভালোবাসা
হুটহাট করে চলে যাবো পাবে শুধু নীরবতা।

Saturday, 5 September 2020

নুর হাসান সন্দ্বীপী'র কবিতা 'চিরবিদায়'

তোমার বাড়ির পাশদিয়ে যাচ্ছিলাম
হুটহাট করেই চলে যাচ্ছিলো দেহ—

দেহের ভিতরে থাকা মন
কেন জানি করছিল চটপট
নিজেকে ও মনকে না সামলাতে সামলাতে...
এদিক ওদিক ঊঁকিঝুঁকি—
তোমাকে খুঁজছি, ঐ-যে সূদুরে ভেজা ওড়না দেখছি।
ওড়নার পাশে শুকাতে দেওয়া লাল সেলোয়ার-কামিজ...

তোমাকে দেখার ইচ্ছে জাগলো, এক-পা দু-পা করে
নীরব নিস্তব্ধ হয়েও এগিয়ে যাচ্ছে শরীর।
বারান্দার জানালার পাশে একগুচ্ছ চুল,
চুলের পাশে সূর্যমুখীর ফুল—

তোমাকে দেখছি, দেখার পাশাপাশি ভাবছি,
হয়তো মন চাই না হয় দেহ তুমি কি আমায় নিয়ে এখনো ভাবো!
তোমার দেহের ভিতরে কি মন নেই?
নাকি মনের ভিতর আমি নেই?

চিৎকার করে জিগ্যেস করতে ইচ্ছে হলো,
চিৎকার করে জিগ্যেস করার পরে-ও।
তুমি হেসে যাচ্ছো,বলে যাচ্ছো নতুনকে নিয়ে কথা।

ভাবতে ভাবতে আবার হাটছি
যাচ্ছি দূরে চলে যাচ্ছি বহুদূরে, যে দূরের সীমা নেই।
সীমাহীন ছুটে চলাকে হয়তো চিরবিদায় বলে।

সে-ই বিদায় দিতে আমি পেরেছি
তুমি পারোনি আগে।

Sunday, 16 August 2020

নুর হাসান সন্দ্বীপী'র কবিতা 'কথা'

এই শুনছো?
হয়তো-বা কখনো বলা হবে না!
নিস্তব্ধ নীরব হয়ে যাবে দেহের শিরা—

চলবেনা দু'টো পা,
হাতটাও বলবে আর পারছি না।
তবুও কেন জানি,কেন জানি মনে হয়
দুচোখের পাতা জুড়ে তোমাকে খুজে পাই—

এই শুনছো?
একটা কথা বলার ছিলো!
একটা কথা জানার ছিলো—

জানি হয়তো-বা কখনো,
কখনো এ কথার উওর হবেনা
বিজলির রঙিন ফিতায় বাঁধা যাবেনা এলোমেলো চুল।

তবুও বলতে চাই—আমার কবিতার ভাষায়,
এই শুনছো একটা কথা বলার ছিলো তোমায়।

হয়তো কোন সাগরের তীরে দাঁড়িয়ে
ঢেউয়ের তালে তালে বিভিন্ন ভাষায় ভালোবাসর কথাটাই বলতে চাই।

এই শুনছো?
এই কথাটা বলতে চাই—
আমি ভালোবাসি তোমায়
তুমিও কি ভালবাসো নীরবে আমায়?

Sunday, 9 August 2020

বাংলাদেশ ভারতের অঙ্গরাজ্য হতে আর কত দেরি পাঞ্জেরী?

বাংলাদেশের উন্নয়ন মানে ভারতের উন্নয়ন, ভারতের উন্নয়ন বাংলাদেশের উন্নয়ন — স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলাদেশের মাটিতে বসবাস করে।বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কিভাবে ভারতের পক্ষে কথা বলে? ওনারা কি সত্যি নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে কাজ করছে? নাকি ভারতের অঙ্গরাজ্য হিসেবে বাংলাদেশকে তৈরি করার লক্ষে কাজ করছে?

এই দেশের মাটিতে বসবাস করা ভারতের দালাল গুলোর উৎসবমুখর পরিবেশ দেখে সত্যি কষ্ট লাগে। আমাদের এই সুন্দর ভূমিকে স্বাধীন করার জন্য যারা জীবন দিয়েছে,তাদের জন্যেও কষ্টের পাশাপাশি আফসোস হয়।

কেন? কেন? কেন?
আপনারা মায়ের বুক খালি করে। আপনাদের জীবন বিসর্জন দিয়ে দেশকে স্বাধীন করেছেন? কি জন্যে জিয়াউর রহমানের কথামতো মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন?

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান।

১৯৭১ সালে "পূর্বপাকিস্তান" নামের দেশটি "পশ্চিমপাকিস্তান" থেকে স্বাধীন হয়েছিলো। ফিরে পায় নতুন ভূখন্ড যার নাম বাংলাদেশ। সেই ১৯৭১ থেকে বাংলাদেশের মানুষ পাকিস্তান থেকে মুক্ত হলেও ইন্ডিয়ার কাছ থেকে মুক্ত হতে পারিনি।

পাকিস্তানকে এখনো বাংলাদেশের তথাকথিত সুশীল মানুষ মনেপ্রাণে ঘৃণা করলেও, তবে ইন্ডিয়ানদের চাটুকার ও দাদাল হিসেবে বেঁচে থাকার জন্যে রয়েগেছে সংখ্যাগরিষ্ঠ সুশীলদের কিছু অংশ।

তবে কি আজকাল সত্যিকারের দেশপ্রেমিকের বড় অভাব? নাকি সত্যিকার অর্থে দেশকে ভালোবেসে দেশের মানুষকে ভালোবেসে নিজেদের পরাধীনতার শিকল থেকে মুক্ত করে। আবার স্বাধীনতার রক্তিম সূর্যের আলোর মিছিলের প্রহর গুনছে হাজারো জনতা?

সত্যি কেন জানি আপসোস হয়।এইদেশের মাটিতে বসবাস করা মানুষ গুলোর জন্যে। কেন না স্বাধীনতার পরথেকে ভালমন্দ মিলিয়ে দেশ চলছিলো। উন্নয়ন ও উন্নতর পথে হাটছিলো।যখন ইন্ডিয়ানরা বুঝতে পারলো বাংলাদেশের মত একটি ছোটদেশ তরতর করে বিশ্বের দরবারে প্রতিষ্ঠিত ও উন্নত হচ্ছে। ঠিক সেই সময় ইন্ডিয়ানরা বাংলাদেশের জনপ্রিয় ও গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের হত্যা করে তাদের মনকামনা পূর্ণ করে।এখনো তারা বাংলাদেশের মাটিতে ঘটিত নানান অপরাধের সাথে জড়িত বলে ধারণা করা যায়।

সেই থেকে আস্তে আস্তে শুরু হয় বাংলাদেশের মাটিতে বিচারবহির্ভূত হত্যার সূচনা। পাশাপাশি শুরু হয় আইনকানুনের অবনতি, অবমাননা ভারতের পক্ষে সাফাই এবং চাটুকারিতা ও গোলামী। সবকিছু মিলিয়ে বাংলাদেশের মানুষ তারপরও ভালো ও খারাপ দুইটাকে মানিয়ে চলছিলো।আস্তে আস্তে বেরিয়ে আসে বাংলাদেশের মাটিতে থাকা ভারতের দালালদের চেহারা।

কেন না প্রতিমাসে সীমান্তে হত্যা হয়।প্রতিবাদে মুখরিত হয় না কেউ।উল্টা বাংলাদেশে থাকা ভারতের দালাল গুলো নানান অপবাদ দেয় মৃত ব্যক্তির উপরে।তারা বাংলাদেশে বসবাস করে ভারতের পক্ষে কথা বলছে কাজ করছে। রয়েছে হাজার হাজার ভারতীয় দালাল।তারা কিভাবে বাংলাদেশের মাটিতে বসে উগ্রবাদী হিন্দুদের পক্ষ হয়ে কাজ করছে? এটা নিয়ে কথা বলার মত কেউ নেই।

আজকাল পত্রপত্রিকার খুললেই দেখা যায়।হাজার হাজার ইন্ডিয়ানরা বাংলাদেশের নানান কলকারখানায় কাজ করছে।বাংলাদেশ থেকে প্রতিনিয়ত রেমিট্যান্স নিয়ে যাচ্ছে ভারতের একটা অংশ।তবে বাংলাদেশের নাগরিকদের চাকরি পেতে হিমসিম খেতে হচ্ছে। ঘুষ দিয়ে চাকরি পেতে হচ্ছে। সত্যি অনেক কষ্ট হয় অনেক আফসোস করে বলতে হয়। এই বাংলাদেশ আমার না। যে বাংলাদেশে বাংলাদেশ পন্থী হয়েও কথা বলা যায় না।

তবুও হাজারো কালোছায়ার মাঝেও আলোর স্বপ্ন দেখছে। এইদেশের মাটিতে বসবাস করা সত্যিকারের কিছু দেশ প্রেমিক তরুণতরুণীরা...।

তারা আজকাল ভারতের বিরুদ্ধে কথা বলছে।ভারতের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লিখছে।প্রতিবাদের ঝড় তুলছে রাজপথে ও অনলাইনে।আমিও বাংলাদেশের একজন স্বাধীন নাগরিক। আমিও চাই বাংলাদেশের মানুষ আবার ফিরে পাক নতুন করে বাঁচে থাকার অবলম্বন। বন্ধ হোক সীমান্ত হত্যা। বন্ধ হোক ভারতের দালালদের মুখের ভাষা। বন্ধ হোক ভারতের আগ্রাসন।

আসুন ভারতের বিরুদ্ধে অবস্থা গ্রহণ করি। ভারতের বিরুদ্ধে বলি।ভারতের বিরুদ্ধে লিখি।প্রতিবাদ করি প্রতিঘাত করি।

#বয়কট_ভারত

আমি বাংলাদেশ পন্থী, আমি বাংলাদেশের একজন গর্বিত নাগরিক, আমি ভারতের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কথা বলি।

এই পোষ্ট সম্পূর্ণ ফেসবুকে পড়তে ক্লিক করুন